কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ ৷ এর মধ্যে দুর্গাপুজা আর কালী পূজা, এই দুই পূজা বাঙালিরা মহা সমারোহে করে থাকে ৷ কয়েক বছর আগেও ঘাটালে দুর্গাপুজোর থেকে কালীপুজোর প্রচলন বেশি ছিল এবং এই পূজাতেই ঘাটালের মানুষ বেশি আনন্দ করত ৷ এক সময় ঘাটালে এত বেশি কালীপুজো হতো যে, মানুষ একদিনে ঠাকুর দেখে শেষ করতে পারত না৷ দুর্গাঠাকুর নয় কালী ঠাকুর দেখতেই তখন ঘাটালের রাস্তায় মানুষের ঢল নামত। আজ আর সেই দিন নেই, এখন দুর্গা পূজায় থিমের ছড়াছড়ি ৷ পুজো ও বাজেট- দুই বেড়েছে ৷ তাই কালীপুজোর থেকে দুর্গা পূজায় ঘাটালের মানুষের উন্মাদনা বেড়েছে ৷ তবুও ঘাটাল শহরে এখনও এমন কিছু কালীপুজো আছে, যেগুলির প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনও আগের মতো আছে ৷ সে রকমই একটি পুজো হল ঘাটালের বারো হাত কালী পুজো ৷ এ পুজো আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ-বাহান্ন বছর আগে শুরু হয়েছিল এক অশ্বত্থ গাছের তলায় ৷ তখন এটা ছিল শ্মশান ৷ সেই সময় এই পুজোটি শুরু করেছিলেন ঘাটালের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী কানাই মিত্র মহাশয় এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি মিলে ৷ তারপর আস্তে আস্তে ঘাটালের রূপ বদলেছে, বদলেছে এই পুজোর রূপও৷ আজ আর সেই অশ্বত্থ গাছও নেই, শ্মশানও নেই ৷ এই পুজোর মূল বৈশিষ্ট দেবীর মূর্তি ৷ এটির উচ্চতা প্রায় বারো হাত সমান ছিল একসময় ৷ তাই এর নাম বারো হাত কালী। তখন কেবলমাত্র কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালী রূপে পূজিত হত ৷ তারপর এই পূজা প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার হত৷ বিগত প্রায় কুড়ি-পঁচিশ বছর আগে থেকে এই পূজা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, ঘাটাল মহকুমা-সহ বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এই দেবী দর্শন করতে আসে ৷ এই পুজো উপলক্ষে বসে সাত দিনের মেলা ৷ অন্য কোনো পূজা মণ্ডপে লোক থাকুক বা না থাকুক এই পূজা মণ্ডপে সাত দিনই প্রচুর জনসমাগম হয়৷ বর্তমানে এই দেবীকে নিত্য পুজো করা হয়৷ নির্দিষ্ট ব্রাহ্মণ আছে ৷ পুরোহিত পার্থ রায় চৌধুরী এই মন্দিরে পূজো করেন নিত্য। প্রতিমা সিমেন্টের ৷ অনেকেই মানত করেন ফল লাভও পান বলে কথিত অাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here