তৃণমূল নেতার কাছে হাতজোড় করে দিলীপ ঘোষকে জেতানোর আবেদন জানালেন বিজেপি নেত্রী তথা সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী। নিজস্ব সংবাদদাতা। পশ্চিম মেদিনীপুর।রবিবার মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এর সমর্থনে মেদিনীপুর বিধানসভার অন্তর্গত শালবনি ব্লকের গড়মাল অঞ্চলের বাগমারি থেকে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী। রূপা গাঙ্গুলির সঙ্গে রোডশোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিজেপি জেলা সভাপতি সুমিত কুমার দাস ,জেলার সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় সম্পাদক অরূপ দাস, সহ সভাপতি শিবু পানিগ্রাহী, বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি আশীর্বাদ ভৌমিক সহ বিজেপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।হুডখোলা গাড়িতে চড়ে এদিন দলীয় প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এর সমর্থনে অভিনব প্রচার করেন বিজেপি সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী।কখনো হুড খোলা গাড়ি থেকে নেমে পড়ে, আবার কখনো পথ চলতি মানুষের কাছে গিয়ে এবং চলতি বাসের কাছে গিয়ে দিলীপ ঘোষকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান বিজেপি নেত্রী। প্রচারের সময় শালবনির জাড়া গ্রামে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা ওই এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা লক্ষীকান্ত ঘোষ। লক্ষী বাবুর কাছে গিয়ে হাত জড়ো করে রূপা গাঙ্গুলি বলেন মেদনীপুরের দামাল ছেলে তথা মেদিনীপুর লোকসভার প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে আপনারা ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করবেন। দিলীপ ঘোষ এলাকার উন্নয়নের কাজ করবেন। গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র রাজ্যকে চার লক্ষ 24 হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ,সেই টাকার প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি, সেটা কোথায় গিয়েছে আমরা জানি, যখন কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ছিল তখন রাজ্য সরকারকে মাত্র 1 লক্ষ 30 হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল ।তাই আপনারা দিলীপ ঘোষকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন ।হাসিমুখে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জানান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ টাকা উননয়নের কাজে ব্যাবহার হয়েছে ।স্থানীয় মানুষজন সব জানেন তারাই লোকসভা নির্বাচনে কাকে ভোট দিবেন ঠিক করবেন। এরপর রূপা গাঙ্গুলী কিছুটা এগিয়ে যান বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা লালগড় গামী একটি যাত্রীবাহী বাসের দিকে। সেখানে তিনি বাসের যাত্রীদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। তিনি বাসে থাকা যাত্রীদের মেদিনীপুরে এবং ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে কুনার হেমরমকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ।রূপা গাঙ্গুলী সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল নেতারা । তিনি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা মানুষকে বলছে বুথে ক্যামেরা থাকবে তুমি কাকে ভোট দিচ্ছো তা আমরা জানতে পারবো, আসলে এটা বোকা বানানোর চেষ্টা হচ্ছে, মানুষকে এইভাবে বোকা বানানো যাবে না ।বুথ দখল করে ভোট করতে এলে মানুষই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে । তৃণমূল নেতারা জঙ্গল কেটে সাফ করেছে ,শাল গাছ কেটে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, বাড়ি তৈরি করার জন্য তৃণমূল নেতাদের টাকা দিতে হয়। বামেরা মানুষকে গরিব করে রেখেছিল ,কোন উন্নয়ন করেনি।আর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে গরিবদের উন্নয়নের টাকা চুরি করেছে ।তাই এই তৃণমূল সরকার কে একটিও ভোট দেবেন না। সেইসঙ্গে রুপা গাঙ্গুলি বলেন শালবনিতে ঘুরে যেভাবে মানুষের সমর্থন পাচ্ছি তাতে আমি ১০০%আশাবাদী দিলীপ ঘোষ এখান থেকে নির্বাচিত হবেন ।সেই সঙ্গে 23 শে মে দিদি বুঝতে পারবেন তিনি কি ভুল করেছেন ,যে ভুলটা করেছিল 2011 সালে সিপিএম ।তাই বাংলা জুড়ে শুধু এখন আওয়াজ উঠছে তৃণমূল বিদায়ের সুর ।মানুষ বিজেপিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য তৈরি ।এক সময় এই সমস্ত এলাকা মাওবাদী এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল ।এই সমস্ত এলাকার মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেন । কারণ এই সমস্ত এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি ।উন্নয়নের টাকা চুরি করে বড় লোক হয়েছেন তৃণমূল নেতারা।এদিন বাগমারি থেকে পিড়াকাটা হোয়ে গড়মাল গ্রামে এসে শেষ হয় বিজেপির পদযাত্রা।এরপর রূপা গাঙ্গুলী মেদিনীপুর শহরের নিমতলা চকে দিলীপ ঘোষের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here