পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ শুধু বাংলা নয় ভারত বর্ষ এবং পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আজও প্রাসঙ্গিক। বিদ্যাসাগরের আদর্শ , যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে ততদিন তিনি প্রাসঙ্গিক। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে এবং ব্রিটিশ শাসক এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি যে সমাজ সংস্কারমূলক কাজ কর্ম করেছিলেন তা ঐতিহাসিক দলিল, কিছু মানুষ অপপ্রচার সবসময়ই করে, এই অপপ্রচারের মাধ্যমে কিছু মানুষকে প্রভাবিত করলেও শেষ অব্দি টিকে থাকে আদর্শ ।এই কথাগুলো বলেন শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে রাজ্য সরকারের জলসম্পদ ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী অধ্যাপক ডক্টর সৌমেন মহাপাত্র। তিনি এই দিন বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি আরো বলেন, বীরসিংহ গ্রাম বিদ্যাসাগরের পূন্য জন্মভূমি হলেও এ গ্রামটি ছিল অবহেলিত। দূর-দূরান্তের মানুষ যে বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান দেখতে আসবেন সেই সুবিধাটুকু ছিল না। এই প্রসঙ্গ নিয়ে কোনদিন কোন ভাবনা চিন্তা করা হয়নি। কিন্তু ২০১১সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবনা চিন্তা করেন, কিভাবে সারা রাজ্য ,সারা দেশের মধ্যে বীরসিংহ গ্রামকে একটি আদর্শ মডেল গ্রাম হিসাবে চিহ্নিত করা যায় এবং বীরসিংহ গ্রাম কে সারা ভারতবর্ষের কাছে একটি বিশেষ স্থান হিসাবে পরিচিত করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী গত বছর এই গ্রামে এসেছিলেন বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্ম বার্ষিকীর শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে। তিনি তখন কথা দিয়েছিলেন বীরসিংহ গ্রাম কে মডেল হিসেবে তৈরি করা হবে। তিনি সেই কথা রেখেছেন। তৈরি করেছেন বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদ এবং এই পর্ষদ খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করবে। বীরসিংহ কে তৈরি করা হবে এক আদর্শ গ্রাম হিসেবে। এখানে রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমস্ত দিক থেকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে তৈরি করা হবে। উন্নত করা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাইওয়ে থেকে বীরসিংহ ঢোকার মুখে তৈরি হবে একটি সুদৃশ্য তোরণ, যাতে দূরদূরান্তের মানুষ জানতে পারেন বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানের পূণ্যভূমি এই বীরসিংহ গ্রাম।
মন্ত্রী বিদ্যাসাগরের জীবনের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন ।তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় বিধবা বিবাহ থেকে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগরের লড়াইয়ের কথা ,সাধারণ মানুষের পাশে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকার কথা , বিদ্যাসাগরের আপোষ হীনতার কথা সৌমেন মহাপাত্র তুলে ধরেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা শাসক ডক্টর রশ্মি কমল, জেলার পুলিশ সুপার দিনেশ কুমার ,জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি অজিত মাইতি। 

জেলাশাসক বলেন, করোনার জন্য মাঝে কিছু কাজের গতি কমে গিয়েছিল কিন্তু এখন আবার কাজের গতি আগের মতোই ফিরে পেয়েছে। বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তার কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানে কিছু মানুষ অশিক্ষিত ছিলেন। আমরা তাদের গতবছর চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষিত করে তোলার প্রয়াস নিয়েছি।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি অজিত মাইতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদ এর মাধ্যমে বীরসিংহ গ্রামের আমূল পরিবর্তন করার প্রয়াস নিয়েছেন। কিছু মানুষ অপপ্রচার করলেও তা কখনোই সফল হবে না।
পুলিশ সুপার দিনেশ কুমার বলেন, আমরা যারা আজ বাংলা বলতে পারছি বাইরের রাজ্যের বাসিন্দা হলেও তা বিদ্যাসাগর মহাশয় এর বর্ণ পরিচয় এর মাধ্যমেই বলতে শিখেছি ।
বক্তারা প্রত্যেকেই বর্ণপরিচয়এর স্রষ্টা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের হাত ধরেই আমরা ভাষা শিখেছি তা বারবার উল্লেখ করেন ।
অনুষ্ঠানে ছিলেন ঘাটাল মহকুমা শাসক অসীম পাল, ঘাটালের এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী ,ঘাটালের বিডিও অরিন্দম দাশগুপ্ত, ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দলুই, দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভূঁইয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা , ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাঝি ,ঘাটাল অফ পুলিশ দেবাশীষ ঘোষ, ঘাটাল থানার ওসি দেবাংশু ভৌমিক এবং বিদ্যাসাগর স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক এবং বীরসিংহ ভগবতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ বেরা সহ আরো বিশিষ্ট জন ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন উপস্থিত অতিথিরা । দুশো টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন অতিথিরা।
আগামী দুদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে বীরসিংহ গ্রামে ।।রাজ্য সরকার বীরসিংহ উন্নয়নের জন্য, বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করায় যে উন্নয়ন আগামী দিনে হতে চলেছে তাতে বীরসিংহ গ্রামের বাসিন্দারা আনন্দ প্রকাশ করেন।

রাজ্য সরকার বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর গবেষণা কেন্দ্র করবেন এবং কলকাতায় বিদ্যাসাগরের লেখার পান্ডুলিপি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে,এ কথা বলেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।