পাড়ার মেয়েকে বিয়ে করার অপরাধে একঘরে ছেলের ঘরের পরিবার। একঘরে, বয়কট এসব গ্রামে শোনা যেত এখন এসব পৌরসভার ওয়ার্ডেই ঘটছে। অবাক অাইনজীবি থেকে শিক্ষক সমাজ। এতদিন যানতাম গ্রামে এই ধরনের ঘটনা ঘটে, কিন্তু এখন পৌরসভার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। ঘাটাল পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চন্দন দোলই বিয়ে করেন ঐ ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুপর্ণা বাগ-কে। তারপর থেকেই গ্রামবাসীরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয় ঐ পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার। গ্রামবাসীদের সবাইকে বলে দেওয়া হয় যারা ওদের সাথে কথা বলবে তাদেরই একঘরে করে দেওয়া হবে। পালিয়ে বিয়ে করেছিল বলে সুপর্ণার বাবা থানায় অভিযোগ জানায়, কিন্তু ছেলে মেয়ে তাদের দুজনেই সাবালক হওয়ার জন্য কোনো মামলা হয়নি। তারপর তারা একসাথে থাকেন। দেশ কমিটি ও গ্রামবাসীরা সালিশি সভা করে পাড়ার মেয়েকে বিয়ে করায় ছেলের পরিবারটি থেকে বাড়ির ব্রাহ্মনকে ঐ বাড়িতে পূজো করা চলবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। চন্দন দোলই এর পরিবারের সাথে পাড়ার কেউ কথা বলতে পারবে না। যে বলবে তাদেরকেও বয়কট করা হবে বলে গ্রাম কমিটি নিধান দেয় এবং চন্দনের বাবা অজিত দোলই এর একটি চায়ের দোকান আছে গ্রামবাসীরা সমস্ত খরিদ্দারদের নির্দেশ দেন তার দোকানে যাওয়া চলবে না। এর ফলে অার্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। গ্রামের মানুষের থেকে পাওনা টাকা পাছে না এবং দোকানে বিক্রি বাটা না হওয়াই সংকটে পরিবার। তাই অজিত দোলই বাধ্য হয়ে সুরাহা পাওয়ার লক্ষ্যে ঘাটাল থানা, পৌরসভা, মহকুমাশাসক, পুলিশ সুপারকে লিখিত অাবেদন জানান যাতে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য। কিন্তু প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ করেন অজিত বাবু। গ্রামবাসীরাও জানান, পাড়ার মেয়েকে বিয়ে করায় একঘরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে গ্রাম কমিটি। অামরা কি করব কথা যদি বলি অামাদেরও একঘরে বয়কট করার কথা জানিয়েছে। ঘাটাল কোর্টের অাইনজীবি সুদীপ্ত রায় জানান, এসব গ্রামে সিপিএমের অামলে ১০ বছর অাগে ঘটত এখন এসব শহরে শুনে অবাক লাগছে এসব হওয়া উচিত নয়। ঘাটাল পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ও ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন মালিক জানান, এরকম ঐ পাড়ায় হয়েই থাকে পরবর্তীকালে ঠিক হয়ে যায়। তবে এধরনের ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়। বিষয়টি ঐ পাড়ার সাথে দূত কথা বলে মিটিয়ে দেবার ব্যবস্থা করছি। পরিবারটি একঘরে থেকে কবে মুক্তি পাবে তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসনের দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here