মেদিনীপুর, ২৭ মে : দখল হয়ে যাওয়া তৃণমূল কার্যালয় দখলমুক্ত করতে পথে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী । শুরু করেন খড়গপুর গ্রামীণের পাঁচখুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর থেকে । শেষ করেন কেশপুরে। যেখানেই গেছেন বিজেপি ও
সিপিএমের হার্মাদ দের হাতে অত্যাচারিত মানুষ ছুটে এসেছেন তাঁর কাছে। কান্না ভেজা গলায় তুলে ধরেছেন
কিভাবে তাঁদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। একের পর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার পর লুটপাট চালানো হয়েছে। এখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটি ঘুরে দেখেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের স্বান্তনা দিয়ে বলেন , ‘ যত দ্রুত সম্ভব এই পার্টি অফিস পুনরায় গড়ে তোলা হবে। তা যতদিন না হচ্ছে এরপাশে একটি অস্থায়ী পার্টি অফিস খুলে বসুন।’

কালিকাপুর গ্রামের লতিকা মাহাতো , মিনু সিং, সুমনা সিং জানান, তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে। স্বামী ও ছেলেরা ঘর ছাড়া। তাঁদের পেলেই কাটবে বলেছে বিজেপি ও সিপিএমের লোকেরা । গত তিন দিন ধরে বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। বলতে বলতে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন । তিনি তাঁদের বলেন , ‘ আপনাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উদ্বিগ্ন । তিনি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে আমাকে পাঠিয়েরছেন। আমি এসেছি। কোনো ভয় নেই। মন শক্ত রাখুন। আপনাদের ভেঙে দেওয়া ঘর আমরাই করে দেব । দোষীরা শাস্তি পাবেই। ‘

এরপর তিনি শালবনি ব্লকের সুন্দরা , বালিজুড়ি , সৈয়দপুর , মন্ডলকুপি গ্রামে আসেন । ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিজেপির হুমকির জেরে কয়েকটি পার্টি অফিস বন্ধ ছিল। শুভেন্দু যেতেই এদিন এগুলি খুলে বসেন কর্মী সমর্থকরা । বালিজুড়ি গ্রামে কালিপদ রায় , কানু রায় , অশ্বিনী রায় সহ ৩২ জন তৃণমূল নেতা কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে। এখানে থাকা একটি পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু কে কাছে পেয়ে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন । বলেন , বারবার জানানো স্বত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি । সামনে থাকা শালবনি থানার পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন , ‘ দোষীদের এখুনি গ্রেপ্তার করুন । রাজ্য পুলিশ এখন আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেই । মমতা ব্যানার্জি পুলিশ মন্ত্রী আর তাঁরই দলের নেতা কর্মীরা মার খাবেন , তাঁদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর হবে এ জিনিষ বরদাস্ত করা হবে না । আমরা বদলার রাজনীতি চায় না । উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি হোক । ‘ মন্ডলকুপি গ্রামে বিপদরঞ্জন ভূইঁয়া নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। প্রাণভয়ে তিনি ঘরছাড়া । বাড়ির মহিলাদের মারধর করা হয়েছে। তিনি তাঁদের বাড়ি যান । সাহস যোগান । এখানে একটি বড় পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । তিনি সেটি ঘুরে দেখেন । দলের কাজ শুরু করার কথা বলেন।
এরপর তিনি চন্দ্রকোনা রোডের গড়বেতা বিধানসভার গুইয়াদহ , আঁধার নয়ন , বহড়াশোল গ্রামে যান । বিজেপি ও সিপিএমের হার্মাদ দের হুমকির জেরে এখানে গত ৪ দিন ধরে বন্ধ ছিল তৃণমূলের কার্যালয়। শুভেন্ধু যেতেই নেতাকর্মীরা এগুলি খোলেন। এরপর তিনি চন্দ্রকোনা টাউন ঘুরে কেশপুরে আসেন। কেশপুর বাজারে তৃণমূল কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। এখানেও ৭ টি পার্টি অফিস বেদখল হয়ে গেছে। রাত হয়ে যাওয়ায় সেগুলি আর খুলতে যাননি। নেতা কর্মীদের বলেন , ‘ কেশপুরে যে ওষুধ প্রয়োগ করে সিপিএমের অত্যাচার রুখেছিলাম এবার সেই ওষুধই প্রয়োগ করা হবে। এই হিংসার রাজনীতি আমরা বরদাস্ত করব না। ‘
কর্মীদের বলেন , ‘ ভয় পাবেন না। এখনো এই রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল। লোকসভা ভোটেও তৃণমূল ২২ টি আসন পেয়ে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ১৬১ টি বিধানসভা আসনেই তৃণমূল জয় ধরে রাখতে পেরেছে। এখনো তৃণমূল সরকার ২৪ মাস রয়েছে। কিভাবে দখল হওয়া পার্টি অফিস পুনর্দখল করতে হয় আমি জানি।’

সোমবার দুপুরে তিনি মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে আসেন । সেখানে মেদিনীপুর লোকসভার প্রার্থী মানস ভূইঁয়া , রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ,বিধায়ক আশীষ চক্রবর্তী , দীনেন রায় , শ্রীকান্ত মাহাতো , প্রদ্যোত ঘোষ , জেলা সভাপতি অজিত মাইতি , সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা , জেলা নেতা শ্যাম পাত্র, নির্মল ঘোষ কে নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। এরপর তাঁদের নিয়েই আক্রন্ত এলাকায় যান। বুধবার থেকে প্রতিটি ব্লকে মিছিল হবে। ঈদের পর সভা হবে