ঘাটাল নিউজ ওয়েব ডেস্ক, ১৫ মে : বর্ণপরিচয়ের স্রস্টা, সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি কাল কলকাতায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিদ্যাসাগর রাজনৈতিক দলের শিকার হলেন রাজ্যবাসীর কাছে যা লজ্জা। যার হাত ধরে আমাদের স্বাক্ষর শেখা এবং বর্ণপরিচয় শেখা তার মূর্তি ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে যা দেখে শিউরে উঠতে হয়। লজ্জায় মুখ ঢাকতে হয় এই বিষয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং তার জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামের মানুষজন কি বলছেন যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অসভ্য বর্বরতার কাজ করছে। তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার এবং কঠোরতম শাস্তির দাবী তুলছেন তারা।
বিদ্যাসাগরের পূর্নভূমি ঘাটাল মহকুমার  বীরসিংহে । পড়াশুনার হাতে খড়ি তাঁরই অক্ষর পরিচয় দিয়ে শুরু। তাঁরই মূর্তি ভেঙে টুকরো করা হল। মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে আছে তাঁর প্রস্তর মূর্তি। বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে দেখা গেল যে সেখানকার মানুষজন ক্ষোভে টগবগ করে ফুঁসছেন। বিদ্যাসাগরের জন্ম স্থানে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ ব্যানার্জী বলেন, এই ঘটনা খুবই লজ্জাজনক। ঘটনাটা যারাই ঘটাক না কেন   তারা বোধ বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে। এলাকার ব্যবসায়ী গৌতম বক্সি  জানান, আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বীরসিংহ গ্রামের বাসিন্দা 
এবং  অধ্যাপক প্রসাদ ঘোষ বলেন, বাঙালীদের হাতে ভুলুন্ঠিত হতে হল এর থেকে লজ্জাজনক ঘটনা অার কি হতে পারে। এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা করছি। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছিলেন তাই নারীদের রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। হাইস্কুলের শিক্ষিকা এবং গ্রামের বাসিন্দা নবনীতা ঘোষ বলেন, বলার ভাষা নেই অন্ধ হয়ে যাছি। যার দৌলতে ভাষা শিখেছি তাঁর মূর্তির বর্বরোচিত অত্যাচার, ধিক্কার জানাই। বীরসিংহের বাসিন্দা অরিন্দম ঘোষ বলেন, এ ঘটনা খুব দু:খের বেদনার। এই ঘটনা ভাবতেও পারছি না। গ্রামের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রূ পিঙ্কী ঘোষ বলেন, যার বই পড়ে শিক্ষার অালো পাছে তাকেই এভাবে ভাঙল। যারা ভেঙেছে তারাও বিদ্যাসাগরের বই পড়ে শিক্ষা অর্জন করেছে। তারা কি করে পারল এই ঘটনা ঘটাতে। ধিক্কার জানাই যারা ঘটিয়েছে শাস্তির দাবী করছি। ওই গ্রামের কৃষক তারক রায় বলেন, যারা লেখাপড়া শিখেছি তা বিদ্যাসাগরের জন্য। বিডিও সই করে তাঁরই জন্য। এই ঘটনায় খুব খারাপ লাগছে। ঘাটালের বুদ্ধিজীবী মহল তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন এই ঘটনার। অধ্যাপক প্রশান্ত সামন্ত জানিয়েছেন , ফ্যাসিস্ট কাজের মত এই ঘটনার নিন্দা করার মত ভাষা পাচ্ছি না। যারা এর সাথে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করা উচিত। অধ্যাপক লক্ষ্মণ কর্মকার বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূলে কুঠারাঘাত করা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভবিষ্যতে এর মাশুল দিতে হবে। শিক্ষক দুলাল কর বলেন, এই ঘটনা লজ্জাজনক। মনীষীর মূর্তি ভাঙা সংস্কৃতিকে মেনে নেওয়া যায় না। যেই করুক এর তীব্র প্রতিবাদ প্রয়োজন। শিক্ষক সুজিত ব্যানার্জী  বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা আমাদের লজ্জার। ভাষা নেই ব্যাক্ত করার। এর তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে সবাইকে। ঘাটাল শহরে বিকেলে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা হবে এই ঘটনার। একই দিনে বীরসিংহ গ্রামের মানুষজন প্রতিবাদ সভাতে মিছিল করে ধিক্কার জানাবে। নারী শিক্ষার দিশারী ও সমাজ সংস্কারক তখনের অন্ধকার যুগের অালো দেখিয়েছিলেন সেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা অাবার যেন অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে দিল। উচ্চ প্রযুক্তি যুগে এই ঘটনা প্রমান করে যে অামাদের সাংস্কৃতিক উত্তরন হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলির সচেতন হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে না হয় এই ধরনের কাজ। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ফ্যাসিস্ট জমানাকে। যে কোন মূল্যে এই ঘটনাকে রুখতে হবে এবং প্রতিবাদ জানাতে হবে সমস্ত ধরনের মানুষকে।