ঘাটাল নিউজ ডেস্ক, ৯ মে:
“মোদী বাবুকে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করে”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন নরেন্দ্র মোদী । এদিন কটাক্ষ করে মোদী বলেন, দিদি থাপ্পড় তো তার কাছে আশীর্বাদ। এরপরই তীব্র আক্রমণ করে মমতা দিদিকে তিনি বলেন, এই থাপ্পর যদি চিটফান্ডে জড়িত ও তোলাবাজদের মারতেন তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুর্দিন হয়তো আসতো না।

প্রচার পর্বে শুরু থেকেই মোদী তৃণমূলকে তোলাবাজ বলে আক্রমণ করে আসছে। তারই জবাব দিতে মমতা বলেছিলেন, “মোদি বাবুরা যখন বাংলায় এসে তৃণমূলকে তোলাবাজ বলে তখন মনে হয় ঠাটিয়ে একটা গণতান্ত্রিক থাপ্পড় মারি”। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিজেপির শীর্ষ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। সুষমা স্বরাজ বলেন মমতা সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন। নিন্দায় মুখর বিজেপির নেতা নেত্রীরা।

কিন্তু মমতার এই আক্রমণের জবাব সেই মুহূর্তে দেননি মোদী। জবাব দিতে মোদী বেছে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের মঞ্চই। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিদি সম্বোধন করেই কটাক্ষ করতে শুরু করেন শ মোদী। বলেন, “আমি শুনলাম আপনি আমাকে থাপ্পড় মারতে চেয়েছেন,আমি আপনাকে দিদি বলে ডাকি সম্মান করি তাই আপনার থাপ্পড়ও আমার কাছে আশীর্বাদ হিসেবেই আসবে। আর তারপরেই নিজের মেজাজে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। কটাক্ষ ছেড়ে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতাকে, বলেন, “এ রাজ্যে চিটফান্ডের নামে আপনারা যে সঙ্গী-সাথীরা গরীবের টাকা লুট করেছে তাদের থাপ্পড় মারায় সাহস দেখালে আজ এত ভয় পেতে হতো না। যারা তোলাবাজি রাজত্ব চালাচ্ছে তাদের থাপ্পর মারার হিম্মত থাকলে আজ এভাবে আপনাকে বরবাদ হতে হতো না”।

“মা-মাটি-মানুষ” তৃণমূলের স্লোগান নিয়েও এভাবেই মোদী আক্রমণ করেন, বলেন সন্তান হারানোর শোক বাংলার মা আজ কাঁদছে।গণতন্ত্রপ্রেমী নির্দোষ নাগরিকের রক্তে লাল রঙে বদলে গিয়েছে বাংলার মাটি, আর মানুষ ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে বাঁচতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিন বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় দুটি সভা করেন মোদী। এই দুই সভায় থেকেই কয়লামাফিয়াদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।