সৌরভ পাল, মেদিনীপুর, ৪ মে : প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে শুক্রবার সভা বাতিল হয়েছিল। দুর্যোগ কাটতেই দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে শনিবার চন্দ্রকোনা ও ঘাটালে রোড শো করে সাধারণ মানুষ থেকে দলীয় কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে মিশে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আরামবাগ লোকসভার ভোট সোমবার। সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দার এবং ঘাটাল লোকসভার প্রার্থী দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে চন্দ্রকোনার গাছশীতলা মোড় থেকে শুরু হয় রোড শো। এরআগে থেকেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকহাজার মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলাতে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র , জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা , তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি , চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া দোলই, দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুইঁয়া , ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলই, শ্যাম পাত্র, কৌশিক কুলভী, গৌতম ভট্টাচার্য্য, দিলীপ মাঝি, অরুন মন্ডল।
দুপুর দেড়টার পর তিনি খড়্গপুর থেকে রওনা হন চন্দ্রকোনার উদ্দ্যেশো। মোহনপুর থেকে ধর্মার চক পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে অসংখ্য মানুষ।
ছিলেন দলীয় নেতা কর্মী সমথর্করা। সকলকে তিনি হাত জড়ো করে প্রণাম জানান। এরপর কেশপুর ঢোকার মুখেও ধরা পড়লো একই ছবি। রাস্তার দুপাশে তাঁকে দেখার জন্য কয়েকঘন্টা ধরে অপেক্ষায় ছিলেন পুরুষ , মহিলারা | কারো হাতে ছিল ফুল , কেউ বাজাচ্ছিলেন শাঁখ। কেশপুর বাজারে গাড়ি থামিয়ে নেমে রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে বেঞ্চে বসে পড়েন | ফনীর ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা , খড়্গপুর গ্রামীনের বিধায়ক দীনেন রায় , কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভ্রা চক্রবর্তী , কেশপুর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সঞ্জয় পানের কাছে জানতে চান কেশপুরে কত ঘর -বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর তালিকা তৈরী করে যেন প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতি হওয়া সব বাড়িই ক্ষতিপূরণ পাবে বলে তিনি জানিয়ে দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চন্দ্রকোনা ঢোকার কিছুটা আগে হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে দাঁড়িযে থাকা কিছু বিজেপি কর্মী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ‘ জয় শ্রীরাম ,জয় শ্রীরাম ‘ ধ্বনি দিতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন। তিনি নামতেই ছুটে পালায়। তাঁকে বলতে শোনা যায় , ‘ পালাচ্ছিস কেন ? আয় আয়। হরিদাস সব। উল্টোপাল্টা গালাগালি দিচ্ছে। ‘ এসময় রাস্তার পাশে থাকা মহিলারা তাঁকে প্রণাম জানান। চন্দ্রকোনায় এসে তিনি সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন ‘ আমি সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। বিরোধী দল সৌজন্য দেখায় না। টাকা ছড়িয়ে কিছু বাঁদর কে কাজে লাগিয়ে আমাকে উল্টোপাল্টা বলছে। ‘ তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন , ‘ মনে রাখবেন , নির্বাচন চলে যাবে। আপনাদের এই বাংলাতেই থাকতে হবে বেশি গরম দেখিয়ো না। গণতন্ত্রে আমি আমার কথা বলবো। তুমি তোমার কথা বলবে। আমার গাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করবে , আমি আমার কর্মীদের বলে পাল্টা দিলে কি হবে বুঝতে পারছেন ? আমি সেটা চায় না। তিনি যে রাজনৈতিক সৌজন্যতায় বিশ্বাস করেন তা জানিয়ে বলেন , ‘ আমি ভদ্রতাকে প্রশ্রয় দিই , কারন আপনাদের সংস্কৃতিতে এটা না থাকলেও বাংলার সংস্কৃতিতে তা অটুট রয়েছে। ‘
এরপরই তাঁকে রোড শোয়ে পা মেলানোর জন্য হাজির হওয়া মানুষের উদেশ্যে বলেন , মোদীর সরকার চোরেদের সরকার। ্সারাদেশ বলছে যে চৌকিদার চোর। তাই চৌকিদারকে একটিও ভোট দেবেন না।

বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন , ‘ দিল্লিতে একটা গুন্ডাদের সরকার চলছে। নোটবন্দির নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। ৫ বছরে দেশে বেকারির সংখ্যা বেড়েছে। শ্রমিক , কৃষক আত্মহত্যা করেছে পেট্রল , ডিজেল , রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে এমনকি কেবল টিভি দেখার খরচ বেড়েছে। এই বিজেপিকে একটাও ভোট নয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চন্দ্রকোনা থেকে জয়ন্তীপুর রোড শো করেন। তারপর ক্ষীরপাই এলাকায় প্রচুর মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য ভীড় করেন। শেষে ঘাটাল সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে কুশপাতা ব্লক তৃনমূল পার্টি অফিস পর্যন্ত ২ কিমি দেবের সমর্থনে রোড শো করলেন দেবকে নিয়ে। জনস্রোত দেখা গেল রাস্তার দুধারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here