ঘাটাল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নায়ক দেব তথা দীপক অধিকারী যখন ঘাটালের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে প্রচার চালাচ্ছেন তখন দিনভর সিআইডির জেরার মুখে বসেই কাটাতে হলো তাঁর প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে |
শুক্রবার তাঁর পিংলায় রোড শো , বড় সভা সব বাতিল করতে হয়েছে | সভায় আসা কর্মী সমর্থকদের মুখ গোমড়া করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে | দাসপুরের বেলতলায় কলমিজোড় গ্রামে রাজকুমার নিমাই মন্ডল এর বাড়িতে থাকছেন লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়া জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার | বুধবার তাঁর কলকাতার নেতাজীনগরের নাকতলার বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল | সেই নোটিশ সেখানে কেউ গ্রহণ না করায় তাঁর অস্থায়ী ঠিকানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডির ডেপুটি সুপার শঙ্কর ভট্টাচার্য নোটিশ পাঠান | সেই নোটিশে লেখা ছিল শুক্রবারই সিআইডির দল তাঁকে জেরা করতে আসবে | সেইমতো এদিন সকাল ৯ টা নাগাদ সিআইডির স্পেশাল সুরিন্টেন্ডেন্ট ইন্দ্রনারায়ণ চক্রবর্তী ও এক ডেপুটি সুপারের ( মহিলা আইপিএস ) নেতৃত্বে ১৬ জনের দল দাসপুরের বাড়িতে আসেন | সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দফায় দফায় জেরা শুরু হয় | পুরো জেরা পর্ব ক্যামেরাবন্দি করা হয় সিআইডির পক্ষ থেকে | দুপুর আড়াইটা নাগাদ তাঁরা প্রথম দফার জেরা শেষ করে খাওয়ার জন্য বেরিয়ে যান | সাড়ে তিনটে নাগাদ আবার ফিরে এসে শুরু হয় জেরা | সন্ধ্যে পর্যন্ত জেরা চলে | তদন্তকারী সিআইডি আধিকারিকরা বেরানোর সময় সাংবাদিকদের সামনে এবিষয়ে মুখ খুলতে চাননি | এড়িয়ে যান |

সিআইডি জেরা প্রসঙ্গে ভারতী ঘোষ বলেন , ‘ আমি যাতে সারাদিন প্রচার করতে না পারি এজন্য ভোটের সময় একজন প্রার্থীকে হেনস্তা করতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এভাবে সিআইডিকে কাজে লাগানো হচ্ছে | মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করতেই সিআইডির জেরা | সব গুরুত্বহীন প্রশ্ন করা হয়েছে যার কোনো ভিত্তিই নেই | ‘

তিনি জনতার আদালতে এসব তুলে ধরে ভোটের প্রচার করবেন বলে দাবি করেন | টানা ৬ বছর ধরে ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়া অনেককে এসপি অফিসে বসিয়ে রেখে টানা জেরা করতেন | দাসপুরের কয়েকজনকে এই অবস্থায় পড়তে হয়েছিল | এদিন তাঁদের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায় , ‘ ধর্মের কল বাতাসে নড়ে | ‘
তিনি যেখানে রয়েছেন সেই বাড়িটি এদিন আগাগোড়াই ঘিরে রেখেছিলেন সিআইএসএফ সশস্ত্র জওয়ানরা | সিআইডির অফিসার ছাড়া বহিরাগত কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি | দোতলার একটি ঘরে জেরা পর্ব চলছিল |
বড় লোহার গেটের বাইরে ছিল কর্মী সমর্থকদের জটলা | উৎসুক মানুষের ভিড় | বিজেপি কর্মী সুজিত পাইন জানান , ‘ আমরা মনে করি না ভারতী দেবী দোষী | উনি রাজ্য সরকারের হিংসার শিকার | এভাবে সিআইডি দিয়ে আমাদের প্রচার বন্ধ করা যাবে না | হিতে বিপরীত হবে | ভোট বাড়বে | ‘

অভিযোগ পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন ২০১৬ সালে নোটবন্দির সময় পুরাতন টাকা দিয়ে সোনা কেনেন ভারতী ঘোষ | দাসপুরের চন্দন মাঝি সেসময় বেশকিছু সোনা দিয়েছিলেন | টাকা পেয়ে যান | তিনি এবং তাঁর পরিচিত সোনা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও সোনা কেনা হয় | তাঁদের অনেককে টাকা দেওয়া হয়নি | চন্দন মামলা দায়ের করেন | সেই মামলায় সিআইডি ভারতী সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে | তিনি জামিনে মুক্ত আছেন |সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার তাকে গ্রেপ্তার করা যাবেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here